চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও ফিরেছে চেনা ছন্দে। এদিকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ফ্রান্স; পর্তুগাল-ইংল্যান্ডও এগোচ্ছে ধাপে ধাপে।
বিশ্বকাপে অপরাজিত এই দলগুলোর এক জায়গায় মিল আছে- সব দলই কোনো না কোনো ম্যাচে গোল হজম করেছে। অথচ এমন দুটি দল আছে, যারা এখনো বিশ্বকাপে কোনো গোল হজম করেনি! মজার ব্যাপার হলো, এই তালিকায় নেই আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের নাম।
গ্রুপ পর্ব থেকে নক-আউটে ওঠার পথে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল এক কথায় অনবদ্য। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের শক্তিমত্তা পুরোপুরি মেলে ধরেছে দিদিয়ের দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। সৌদি আরবের বিপক্ষে তারা জিতেছে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশরা। ৩ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি গোল হজমের খাতায় ‘শূন্য’ ধরে রেখেছে তারা।
এদিকে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো ঘরের মাঠের চেনা দর্শকদের সামনে যেন অপ্রতিরোধ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছে। আজ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও আসতেকায় শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে।
হুলিয়ান কুইনোনেস এবং রাউল হিমেনেজের গোলে ম্যাচ জেতার পাশাপাশি পুরো ম্যাচে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রেখেছিল মেক্সিকান ডিফেন্ডাররা। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেলকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়াতে পারেনি কোনো স্ট্রাইকার।
গ্রুপ পর্ব এবং রাউন্ড অব ৩২-এর খেলায় প্রতিপক্ষের জালে মোট আটটি গোল করেছে মেক্সিকো। কিন্তু হজম করেনি কোনো গোল।
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের কী অবস্থা?
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কিংবা পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিল আক্রমণভাগে যতটাই ধারালো হোক না কেন, তাদের রক্ষণভাগ কিন্তু শতভাগ নিখুঁত ছিল না। গ্রুপ পর্বের কোনো না কোনো ম্যাচে অসাবধানতাবশত গোল হজম করতে হয়েছে আলবিসেলেস্তে ও সেলেসাওদের।
গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার জালে মোট ৫টি গোল করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোনো গোল হজম করেনি আলবিসেলেস্তেরা। তবে শেষ ম্যাচে জর্ডানের কাছে একটি গোল খায় তারা। যদিও ম্যাচটি জিতেছে ৩-১ গোল ব্যবধানে। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ ও রাউন্ড অব ৩২-এর খেলা শেষে ব্রাজিল হজম করেছে মোট দুটি গোল।
খুলনা গেজেট/রুএ

